বুধবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২০, ১২:৪৪ অপরাহ্ন

চাকরির পেছনে না ছুটে উদ্যোক্তা হওয়ার পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর

চাকরির পেছনে না ছুটে উদ্যোক্তা হওয়ার পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর

বরেন্দ্র নিউজ ডেস্কঃ ডিগ্রি অর্জন করে চাকরির পেছনে না ছুটে নিজেদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে যুবকদের পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত বঙ্গবন্ধু জাতীয় যুব দিবস-২০২০ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ পরামর্শ দেন। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী।
যুবকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, একটা ডিগ্রি নিয়েই চাকরির পেছনে না ছুটে নিজে কীভাবে কিছু করা যায়, নিজে কাজ করব আরও দশজনকে চাকরি দেব, নিজে উদ্যোক্তা হব, নিজেই বস হব- এই কথাটা মাথায় রাখতে হবে। আমার মধ্যে যে শক্তিটা আছে। সেই শক্তিটা আমি কাজে লাগাব- এই চিন্তাটা আমাদের যুবকদের মাথায় যেন থাকে। তিনি বলেন, আমরা তো বৃদ্ধ হয়ে গেছি, আমাদের তো সময় শেষ। কিন্তু যুবকরাই তো আসলে দেশের প্রাণসঞ্চার করবে। কাজেই সেভাবে আমাদের তরুণ প্রজন্ম এগিয়ে যাক এবং দেশকে এগিয়ে নেবে সেটাই চাই। এই বয়সটাই হচ্ছে কাজের বয়স, চিন্তার বয়স, মেধা বিকাশের বয়স। শেখ হাসিনা বলেন, আজকে যারা যুবক আগামী দিনে তারাই দেশের কর্ণধার হবে। আজকে যে শিশুটা জন্ম নিল, তার ভবিষ্যৎটা যেন উন্নত হয়, সেই বিষয়টা চিন্তা করেই এসব পদক্ষেপ আমরা নিচ্ছি। এক্ষেত্রে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। ফ্রিল্যান্সারদের স্বীকৃতি দিতে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেটা নিয়েও আমরা সজীব ওয়াজেদ জয়ের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে আমাদের আইসিটি মন্ত্রণালয় উদ্যোগ নিয়েছে, আমাদের যুব মন্ত্রণালয়ও। যেন যারা এ ধরনের ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজ করবে তারা যেন একটা স্বীকৃতি পায়। তারা সনদ পায় বা একটা সার্টিফিকেট তাদের হাতে থাকে। তারা যে একটা কাজ করছে এবং কাজ করে তারা যে অর্থ উপার্জন করছে, এইটাও একটা কাজ। তিনি বলেন, ফ্রিল্যান্সারদের একটা অসুবিধা আছে সেটা আমি জানি। যেহেতু এখানে কোনো রেজিস্ট্রেশন করতে হচ্ছে না, সার্টিফিকেট নাই। স্বীকৃতি নাই। অনেক সময় অনেকে জিজ্ঞেস করে আপনি কী করেন, যদি বলে ফ্রিল্যান্সার অনেকেই বুঝতেই পারে না ব্যাপারটা কী। কেউ হয়তো এটার স্বীকৃতি দেয় না। তিনি বলেন, আমার কাছে এমনও অভিযোগ এসেছে যে বিয়ের বাজারেও যদি বাবা বিয়ে ঠিক করতে গিয়ে বলে ছেলে কী করে? ফ্রিল্যান্সার শুনে বলে সেটা আবার কী? এখানে আমি মেয়ে দেব কেন? সেটাও একটা সমস্যায় পড়তে হয়। কারও হয়তো নিজেরা ফ্রিল্যান্সিং করেছে, ছেলেমেয়ে আছে। স্কুলে ভর্তি করতে নিয়ে গেছে, ভর্তি করবে না স্কুল। ভালো স্কুল। কেন? আপনি কি ইনকাম করেন তার তো কোনো নিশ্চয়তা নাই। হয়তো দুই লাখ-তিন লাখ টাকা আয় করছে। কিন্তু তার এমন কোনো স্বীকৃতি নাই, তার ছেলে-মেয়েকে ভর্তি করতে চায় না। সে ধরনের অভিযোগও এসেছে। ’৭৫-এর পর থেকে ২১ বছর, তার পর মাঝখানে আটটা বছর (২০০১ থেকে ২০০৮)- এই সময়টা নষ্ট হয়ে গেছে জানিয়ে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, আমাদের সরকারের একটা নীতিমালা হচ্ছে, আমরা শুধু রাজধানীভিত্তিক উন্নয়ন করি না। আমাদের উন্নয়নটা হচ্ছে একেবারে গ্রামভিত্তিক। অর্থাৎ গ্রামীণ জনগোষ্ঠী শহরের সব সুযোগ-সুবিধা পাবে এবং উন্নয়নটা সব জায়গায় সমানভাবে হবে।
বিদেশফেরতদের বাধ্যতামূলক পরীক্ষা ও কোয়ারেন্টাইনে রাখার নির্দেশ : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব পুনরায় ব্যাপকভাবে দেখা দেওয়ায় ইতিমধ্যে ইংল্যান্ডসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে লকডাউন করা হয়েছে। কাজেই আমাদের সবাইকে একটু সুরক্ষিত থাকতে হবে। আমাদের দেশে কেউ ঢুকতে গেলেই করোনাভাইরাস নিয়ে ঢুকছে কিনা-সেটা পরীক্ষা করতে হবে। আমাদের দেশের মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। আমি আশা করি, সেটা আপনারা করবেন। তিনি বলেন, শীতের আগমনে ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় দেশের বিমানবন্দরসহ সব প্রবেশপথে বাধ্যতামূলক পরীক্ষা করতে হবে। এখন আবার সময় এসে গেছে, যারা বাইরে থেকে আমাদের দেশে আসবেন তাদের পরীক্ষা করা, কোয়ারেন্টাইনে রাখা- এটা আমাদের এয়ারপোর্ট থেকে শুরু করে প্রত্যেকটি পোর্টে আগের মতো ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি বলেন, যে কোনো কাজে সবাই মাস্ক ব্যবহার করবেন। যে কোনো জনসমাগম বা মার্কেটে যাবেন বা কারও সঙ্গে মিশবেন তখন অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করে নিজেকে এবং অপরকেও সুরক্ষিত করবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবাই নিয়ম মেনে চলবেন। কারণ, যেভাবে এই করোনাভাইরাস থেকে মানুষকে রক্ষা করেছি সেভাবেই যেন রক্ষা করতে পারি। সবাই এটাকে একটা দায়িত্ব হিসেবে নেবেন সেটাই আমরা চাই। করোনাভাইরাস মোকাবিলার জন্য তার সরকার ঘোষিত ১ লাখ ১২ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকার ২১টি প্রণোদনা প্যাকেজের উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটা দিয়েছি যেন আমাদের অর্থনীতির গতিটা অব্যাহত থাকে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে এ বছরের বঙ্গবন্ধু জাতীয় যুব পুরস্কার বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। ২১ জন স্বনির্ভর যুবক এবং ৫টি সফল যুব সংগঠনকে যুবকদের জন্য কর্মসংস্থানে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ পুরস্কার দেওয়া হয়। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ আখতার হোসেন অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ দেন। পুরস্কার বিজয়ীদের পক্ষে সাইফুর রহমান এবং সামিয়া রহমান অনুষ্ঠানে নিজ নিজ অনুভূতি ব্যক্ত করেন। বঙ্গবন্ধু জাতীয় যুব দিবস-২০২০ উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট এবং খাম অবমুক্ত করা হয়। ‘মুজিববর্ষের আহ্বান, যুব কর্মসংস্থান,’ এই প্রতিপাদ্য নিয়ে সারা দেশে দিবসটি উদযাপিত হয়।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | বরেন্দ্র সমাচার.কম
ডিজাইন ও তৈরী করেছেন- হাবিবুর রহমান নীল